কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন আমাদের জীবনের নানাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কয়েক মুহূর্তেই তৈরি করা যাচ্ছে ছবি, ভিডিও কিংবা নানা ধরনের লেখা। প্রযুক্তির এই সুবিধা মানুষের কাজকে সহজ করে তুললেও এর পেছনে থাকা পরিবেশগত খরচ নিয়ে অনেকেরই তেমন ভাবনা নেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত ডেটা সেন্টারগুলোতে বিপুল পরিমাণ কম্পিউটার একসঙ্গে কাজ করে। এতে প্রচুর তাপ উৎপন্ন হয়। সেই তাপ নিয়ন্ত্রণে অনেক ডেটা সেন্টারে পানি ব্যবহার করে শীতলীকরণ ব্যবস্থা চালানো হয়। ফলে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পানির চাহিদাও বাড়তে পারে।
ছবি তৈরির পেছনেও রয়েছে পানির ব্যবহার
এআই দিয়ে একটি ছবি তৈরি করতে ব্যবহারকারীকে হয়তো কয়েক সেকেন্ডই অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু সেই ছবি তৈরির পেছনে থাকা কম্পিউটার, বিদ্যুৎ ও শীতলীকরণ ব্যবস্থার কার্যক্রম চোখের আড়ালেই থেকে যায়।
গবেষণায় এআই ব্যবহারের সঙ্গে পানির সম্পর্ক তুলে ধরা হলেও প্রতিটি প্রশ্ন বা ছবি তৈরিতে ঠিক কতটুকু পানি খরচ হয়, তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। কারণ পানির ব্যবহার নির্ভর করে এআই মডেলের ধরন, ডেটা সেন্টারের অবস্থান, আবহাওয়া এবং ব্যবহৃত প্রযুক্তির ওপর।
পানিসংকটের সময়ে নতুন উদ্বেগ
বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ইতোমধ্যেই বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ডেটা সেন্টারের জন্য অতিরিক্ত পানির ব্যবহার স্থানীয় মানুষের জীবন ও পরিবেশের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় পানির জোগান সীমিত, সেখানে এ ধরনের স্থাপনা গড়ে তোলার আগে পরিবেশগত বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
এআই প্রযুক্তির উন্নয়ন থেমে থাকবে না। বরং ভবিষ্যতে এর ব্যবহার আরও বাড়ার সম্ভাবনাই বেশি। তাই প্রযুক্তির অগ্রগতির পাশাপাশি পানি সংরক্ষণ, পানি পুনর্ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব শীতলীকরণ ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করাও জরুরি।
প্রযুক্তির সুবিধার সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্য
এআই আমাদের জীবনকে সহজ করছে, নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে। তবে এই সুবিধা যেন পরিবেশের জন্য বড় বোঝা হয়ে না দাঁড়ায়, সেদিকেও নজর দিতে হবে। একটি ছবি তৈরি বা একটি প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার পেছনে যে অবকাঠামো কাজ করে, তার পরিবেশগত প্রভাব সম্পর্কে সচেতন হওয়া এখন সময়ের দাবি।
প্রযুক্তি মানুষের জন্য, আর সেই মানুষ ও প্রকৃতিকে সুরক্ষিত রাখাই হওয়া উচিত প্রযুক্তির অগ্রগতির অন্যতম লক্ষ্য।
| ফজর | ৫.০০ মিনিট ভোর |
|---|---|
| যোহর | ১.৩০ মিনিট দুপুর |
| আছর | ৪ .৩০ মিনিট বিকাল |
| মাগরিব | ৬.২০ মিনিট সন্ধ্যা |
| এশা | ৭.৩০ মিনিট রাত |
| জুম্মা | ১.৪০ মিনিট দুপুর |